তুমি প্রতিবাদী হবে?
তুমি প্রতিবাদী হবে?
শিখা ভট্টাচার্য্য
তুমি প্রতিবাদী হবে?
পারবে?
তুমি তোমার প্রতিবাদী কন্ঠকে – মহাশক্তিধরের বিরুদ্ধে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিতে?
প্রতিটি মানুষের দ্বারে!
যদি পারো, দেখবে – রাষ্ট্রদ্রোহের মেডেলটা সেটে গেছে তোমার শরীরে!
তুমি কি ভয় পেয়ে পিছিয়ে পড়বে?
নাকি নিরন্ন মানুষের অধিকারের দাবীতে নিশ্চয় থাকবে!
পারবে?
যারা ন্যায়কে পাশে রেখে অন্যায়কে করেছে আপন
তাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ হাতে – প্রতিবাদের ঝান্ডা নির্ভয়ে তুলে ধরতে?
তবে কিন্তু তোমার কঠিন শাস্তি অবধারিত
জীবন যন্ত্রণা কাকে বলে – বুঝিয়ে দেবে তোমায়
কারণ – মহাশক্তিধরেরা তোমার প্রতিবাদী কন্ঠকে ভয় পেয়ে আতংকিত হয়
তাই ওরা রুদ্ধ করে দিয়ে চায় তোমার প্রতিবাদী কন্ঠকে
জানি , তবুও তুমি প্রতিবাদী হবে
কেননা- জরাগ্রস্ত সমাজের প্রাচীন অসুখকে নির্মুল করাই যে তোমার হিরণময় স্বপ্ন
সমস্ত অপসংস্কৃতির আগুনকে তুমি করবে ধ্বংস
তুমি যে ন্যায়ের প্রতীক
অথচ তুমি জানো – এইদিন তোমার প্রতিবাদী কন্ঠকে দাবিয়ে দেবে মহাশক্তিধরেরা
তোমার জীবনে সেদিন নেমে আসবে উন্মাদের মতো কালো অন্ধকার
মৃত্যুই হবে তোমার উপহার
হয়তো শাস্তি তোমার জেলের অন্ধ কুঠুরিতে
মরবে তুমি হাঁসফাঁস করে
কিংবা উদ্ধত বেওনির দুচিনি তোমার বুক চিড়ে দিবে
রক্তস্রোতের ধারা বয়ে যাবে পথে
সেই বুকের রক্তে ধুয়ে যাওয়া প্রতিটি রক্তবিন্দুতে জন্ম নিবে অসংখ্য রক্তবীজের আজকের প্রজন্ম
ওরাও একদিন যাবে তোমারই মতো প্রতিবাদে
আর সেদিনই হবে তোমার স্বার্থক মৃত্যু!
সমস্ত ক্লেশ ধুয়ে যাবে তোমার আগামীর এক সুন্দর উজ্জ্বলতম দিনের হাত ধরে




